সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কোচ সংযোগ যন্ত্রাংশের উৎপাদন শুরু

দেশের বৃহত্তম নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় আবারও শুরু হয়েছে ট্রেনের কোচ সংযোজনের যন্ত্রাংশ স্ক্রু কাপলিংয়ের। কাঁচামালের অভাবে ইতিপূর্বে এর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। রেলওয়ে কারখানা সূত্র জানায়, ট্রেন বহরে একটি কোচের সঙ্গে আরেকটি কোচকে সংযুক্ত করতে যে যন্ত্রাংশটি ব্যবহার হয় তার স্ক্রু কাপলিং। একটি স্ক্রু কাপলিং তৈরি করতে ১৩ ধরণের উপকরণ দরকার হয়। যার যোগান দিতে পারছিল না কর্তৃপক্ষ। ফলে গত ২০১৪ সালে এখানে এর উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সূত্রটি জানায়, বর্তমানে সৈয়দপুর রেলওয়ে জেলা স্টোর ডিপোতে পর্যাপ্ত কাঁচামাল মজুদ রয়েছে। ওই মজুদকে ভিত্তি করে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ইস্মিতি শপে ( কামারশাল উপ-কারখানা) শুরু হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্ক্রু কাপলিংয়ের নির্মাণ কাজ। গতকাল সোমবার সরজমিনে দেখা যায়, কামারশাল উপ-কারখানায় শ্রমিকরা স্ক্রু কাপলিং তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কয়েকজন শ্রমিক জানান, এ শপে অন্যান্য যন্ত্রাংশ তৈরির পাশাপাশি স্ক্রু কাপলিং তৈরি করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় উৎপাদন বাড়াতে লোকবল নিয়োগের দাবি জানান তারা। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ইস্মিতি শপের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ উর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আলী লোকবল সঙ্কটের স্বীকার করেন।
তিনি বলেন, এ শপে মঞ্জুরীকৃত জনবল হচ্ছে ২১৭ জন, কিন্ত সেখানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৭২ জন। অল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে বিপুল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব। তবুও অন্যান্য কাজের পাশাপাশি মাসে কমপক্ষে ১৫টি স্ক্রু কাপলিং তৈরি করা হচ্ছে এখানে। বছরে এর চাহিদা রয়েছে ২৪২টি। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার প্রোডাকশন কন্ট্রোল শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী কোরবান আলী জানান, প্রতিটি স্ক্রু কাপলিং উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১৫ হাজার টাকা। কিন্ত ওই পণ্যটি বিদেশ থেকে আমদানি করা হলে তিনগুণ খরচ বাড়ত। সেক্ষেত্রে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছি। উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে লোকবল সঙ্কট দূর হওয়া দরকার বলে তিনি জানান। ইস্মিতি শপের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মো. শাহজাহান আলী আরও জানান,একেকটি স্ক্রু কাপলিং তৈরিতে ১৩টি উপকরণ প্রয়োজন হয়। এর কাঁচামাল পর্যাপ্ত থাকায় কারখানায় এ যন্ত্রাংশটি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এ ব্যাপারে কথা হয় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার উৎপাদন প্রকৌশলী (পিই) শাহ সুফী নূর মোহাম্মাদের সঙ্গে। তিনি জানান, কেবল ইস্মিতি শপই নয়, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার অভ্যন্তরে ২৮টি উপ-কারখানাতে স্বাভাবিক উৎপাদন হচ্ছে। কাঁচামাল সঙ্কট দূর হওয়ায় উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে কারখানায় জনবল সঙ্কটের কথা অকপটে স্বীকার করেন তিনি।
Share on Google Plus

About Sadia Afroza

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment