‘উদ্ভট’ অভিযোগে খেপেছে অস্ট্রেলিয়াও

ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ হবে, আর কথার লড়াই হবে না—তা হয় নাকি! তবে বেঙ্গালুরু টেস্টে এসে সেই লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে স্টিভেন স্মিথের ‘ডিআরএস-বিভ্রান্তি’ বিতর্কে। ম্যাচ শেষেই কোহলি বলে দিয়েছিলেন, সীমা অতিক্রম করেছেন স্মিথ। পরোক্ষভাবে প্রশ্ন তুলেছিলেন স্মিথ ও অস্ট্রেলিয়া দলের সততা নিয়েও, যেটা শুনে ভীষণ খেপেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। কোহলির এই অভিযোগকে ‘উদ্ভট’ বলে বর্ণনা করেছেন সিএর প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড। এ নিয়ে দুই দলের সাবেকরাও জড়িয়ে পড়েছেন তর্ক-বিতর্কে। ঘটনাটা বেঙ্গালুরু টেস্টের চতুর্থ দিন, অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসের ২১তম ওভারে। উমেশ যাদবের নিচু হয়ে যাওয়া বলে এলবিডব্লু হলেন স্টিভেন স্মিথ। রিভিউ নেবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহে ছিলেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক। দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে একসময় অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমের দিকে তাকিয়ে ইশারাও করলেন পরামর্শের জন্য! বুঝতে পেরে দৌড়ে এসে বাধা দেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি, বাধা দেন আম্পায়ার নাইজেল লংও। স্মিথ রিভিউ নেননি। পরে সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক। দাবি করেছেন, ওই সময় তাঁর মাথা কাজ করছিল না।
কোহলির অবশ্য এই ব্যাখ্যা মনে ধরেনি। তাঁর মতে, স্মিথ সীমা অতিক্রম করেছেন। এই টেস্টে আগের তিন দিনও অস্ট্রেলিয়াকে দুবার এই কাজ করতে দেখেছেন বলে দাবি তাঁর। কোহলির এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি অস্ট্রেলিয়াও। কোচ ড্যারেন লেম্যান যেমন দাবি করেছেন, অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটীয় চেতনার বাইরে গিয়ে কিছু করেনি এই সিরিজে। অধিনায়কের পাশে দাঁড়িয়ে কোচ বলেছেন, ‘আমি খুবই বিস্মিত হয়েছি ওদের (ভারতের) অভিযোগ শুনে। তবে এটা একান্তই ওদের মতামত। কোহলির যেমন নিজস্ব মত আছে, আমাদেরও আছে।’ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড অবশ্য এতটা নরম ভাষায় জবাব দেননি। তিনি চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামেই ছিলেন। ভারতের অভিযোগ শুনে খেপে গিয়ে বলেছেন, ‘স্টিভেন স্মিথ, অস্ট্রেলিয়া দল বা আমাদের ড্রেসিংরুমের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উদ্ভট ব্যাপার। যেসব মন্তব্যে আমাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বা বলা হয়েছে আমরা অনৈতিক কৌশল অবলম্বন করেছি, আমরা সেগুলো প্রত্যাখ্যান করছি।’ এই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন দুই দলের সাবেক ক্রিকেটাররাও। সাবেক অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক অবশ্য কোনো পক্ষ না নিয়ে ভারতের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেছেন, ‘বিরাট কোহলি যেটা বলছে, সেটা যদি সত্যি হয়, অস্ট্রেলিয়া যদি ডিআরএসের সিদ্ধান্ত নিতে ড্রেসিং রুমের সাহায্য নিয়ে থাকে, তাহলে সেটা অগ্রহণযোগ্য।’ ওদিকে সাবেক ভারত অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন স্মিথকে।
নিয়ম অনুযায়ী ডিআরএসের সিদ্ধান্ত নিতে হয় মাঠে থাকা ব্যাটসম্যানকে। সেই নিয়ম ভাঙার জন্য স্মিথের শাস্তি হওয়া উচিত বলেও মনে করেন সৌরভ, ‘যেটা করা নিষিদ্ধ, সেটা নিষিদ্ধই থাকা উচিত। যদি আম্পায়াররা দেখে থাকেন যে স্মিথ ডিআরএসের নিয়ম ভেঙেছে, তাহলে ওদের সেটা রিপোর্ট করা উচিত এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ রকম যাতে আর না হয়, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারির।’ তবে কাল রাতে আইসিসি জানিয়েছে, স্মিথের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না তারা। ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা কোনো ব্যবস্থা নেবে না মেজাজ হারানো ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলির বিরুদ্ধেও। আইসিসি বরং উদ্যোগ নিয়েছে দুই অধিনায়ককে একসঙ্গে বসিয়ে অস্বস্তিকর আবহ দূর করার। রাঁচিতে তৃতীয় টেস্ট শুরু হওয়ার আগেই দুই অধিনায়ককে নিয়ে বসবেন ম্যাচ রেফারি। এএফপি, রয়টার্স, ক্রিকইনফো।
Share on Google Plus

About Sadia Afroza

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment