নতুন চ্যাম্পিয়ন উত্তরাঞ্চল

বিসিএলের পঞ্চম আসরে এসে দেখা পাওয়া গেল প্রথম শিরোপার। বিসিবি উত্তরাঞ্চলের খেলোয়াড়দের আনন্দে ভেসে যাওয়ারই দিন ছিল কাল। কিন্তু সেটি কি হলো? ম্যাচ শেষে যে গ্রুপ ছবিটা তুলল উত্তরাঞ্চল, তাতে দলের সবার মুখেই ঝলমলে হাসি। মাটিতে রাখা ট্রফির দিকে আঙুল দিয়ে আধশোয়া হয়ে আছেন অধিনায়ক জহুরুল ইসলাম ও নাসির হোসেন। পেছনে অন্যরা। ফ্রেমবন্দী এটুকু ছবি দেখলে মনে হতেই পারে যে, কাল আসলেই বাঁধভাঙা আনন্দে ভেসেছে বিসিবির দলটি। আসলে সে রকম কিছু নয়। বিকেএসপিতে প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল ও ওয়ালটন মধ্যাঞ্চলের ম্যাচে ফলের সম্ভাবনা ছিল না। তারওপর ফতুল্লায় ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়া হয়ে গেছে উত্তরাঞ্চলের। ম্যাচ না জিতলেও ড্র যে হবে তা-ও একরকম জানাই ছিল। তৃতীয় দিন শেষেই তাই এটা মোটামুটি নিশ্চিত ছিল যে, এবারের বিসিএলে চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে উত্তরাঞ্চল। কাল সে আনুষ্ঠানিকতাই কেবল পূরণ হলো। কাজেই শিরোপা জয়ের আনন্দ হঠাৎ করে বিস্ফোরিত হতে পারেনি। কোনো টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ট্রফিটা তাজা তাজা পেলেও আনন্দ করার একটা উপলক্ষ তৈরি হয়। উত্তরাঞ্চল কাল সে ট্রফিও হাতে পেল না। তাদের সম্বল হলো শুধু ৩৫ লাখ টাকা প্রাইজমানির রেপ্লিকা চেক। শিরোপা জয়ের পর যে ট্রফি নিয়ে গ্রুপ ছবি তোলা হলো, তা আসলে ম্যান অব দ্য ম্যাচ ফরহাদ হোসেনের। বিসিএলের ট্রফি হাতে পেতে আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে উত্তরাঞ্চলকে। ফরহাদ সেঞ্চুরি করেছেন প্রথম ইনিংসে। তৃতীয় দিন শেষে ৯১ রানে অপরাজিত নাজমুল হোসেন শান্ত সেঞ্চুরি (১২২*) করলেন কাল। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তাঁর চতুর্থ সেঞ্চুরি। ৮ উইকেটে ২৯৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে উত্তরাঞ্চল। ৪৫৪ রানের অসম্ভব লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে পূর্বাঞ্চল শেষ পর্যন্ত করেছে ৩ উইকেটে ১২৮।
উত্তরাঞ্চলের অধিনায়ক জহুরুল শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব ভাগ করে দিয়েছেন দলের সবার মধ্যে, ‘আমি নিজে ব্যাটিং ভালো করিনি। তবে দলের অন্য সবাই ভালো খেলেছে। সেটারই অর্জন চ্যাম্পিয়ন হওয়া।’ প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল ও ওয়ালটন মধ্যাঞ্চলের ম্যাচের একটাই ‘প্রাপ্তি’। ড্র হলেও রানবন্যার এই ম্যাচ অন্তত তৃতীয় ইনিংসের দেখা পেয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের ৭৪৯ রানের পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ওপেনার সাদমান ইসলামের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি (১১৩) আর তাইবুর রহমানের ৯০ রানের সৌজন্যে ৪১৫ রান করেছে মধ্যাঞ্চল। পঞ্চম উইকেটে দুজন মিলে গড়েছেন ৯৮ রানের জুটি। সাদমানকে বোল্ড করা বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম (অপু) উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে সফল বোলার। ১০০ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ম্যাচ ড্র করে দক্ষিণাঞ্চল হয়েছে রানার্সআপ। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে তারা মাত্র ২ ওভার ব্যাট করলেও তাতেই হয়ে গেছে একটা রেকর্ড। ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি রান করার রেকর্ডটি গড়েছেন তুষার ইমরান। ১২ বলে অপরাজিত ২৮ রান করে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন লিটন দাসকে। ২০১৪-১৫ মৌসুমে ১২৩২ রান করেছিলেন লিটন, তুষারের রান এখন ১২৪৯। মজার ব্যাপার, তুষার কাল রেকর্ডটি করেছেন ওপেনিংয়ে নেমে। হয়তো রেকর্ডের জন্যই হয়ে গিয়েছিলেন ওপেনার। তাতে কী! বিসিএলজুড়ে যে রকম দুর্দান্ত খেললেন, শেষটা তাঁর রেকর্ডের মালা গলায় পরে হতেই পারে।
Share on Google Plus

About Sadia Afroza

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment