তবু মিসরকে হারানোর আশা

মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে বিকেল চারটায় অনুশীলনে আসার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। কিন্তু তারা এলই না। কারণটা জানা গেল সহকারী কোচ মাহবুব হারুনের কাছে, ‘বজ্রপাত হতে পারে। তাই কোচ অলিভার অনুশীলন বাতিল করেছেন।’ অবশ্য বজ্রপাতের শঙ্কা ছিল অল্প কিছু সময়। কোচ হয়তো ভেবেছেন এমন বিকেলে অনুশীলন করে আবার না খেলোয়াড়েরা ভয় পেয়ে যান! স্টেডিয়ামটা তাই নিথর পড়ে রইল। বোঝাই যাচ্ছিল না এখানে বিশ্ব হকি লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের চারটি কোয়ার্টার ফাইনাল আজ।
বিকেল চারটা পাঁচ মিনিটে শুরু শেষ কোয়ার্টার ফাইনাল আবার স্বাগতিক দলের, র্যা ঙ্কিংয়ে ৩২তম বাংলাদেশের চেয়ে ১২ ধাপ এগিয়ে থাকা শক্তিশালী মিসর প্রতিপক্ষ। যারা ১৯৯২ ও ২০০৪ অলিম্পিকে ১২তম হয়েছিল। আফ্রিকান কাপ ফর নেশনসে ১৯৮৩ ও ১৯৮৯ সালে চ্যাম্পিয়ন এবং গত ছয়বার টানা রানার্সআপ। আফ্রিকান গেমসে দুবারের চ্যাম্পিয়ন, সর্বশেষ শিরোপা জয় ২০০৩ সালে। এই মিসরের সঙ্গে আগে একবারই খেলেছে বাংলাদেশ। ঢাকায় ২০০১ সালে চ্যালেঞ্জ কাপে স্বাগতিকদের হার ২-১ গোলে। ১৬ বছর পর আজ দ্বিতীয় সাক্ষাতে হেরে গেলে চড়া মূল্য দিতে হবে বাংলাদেশকে। ঘরের মাঠে বিশ্ব হকি লিগের সেমিফাইনালে ওঠা হবে না স্বাগতিকদের। পরশু ওমানের কাছে হারটাই সুতায় ঝুলিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের ভাগ্য। সহকারী কোচ মাহবুব হারুন জানেন ওই হারের কারণ, ‘কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে না পারলে দল তো হারবেই।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমরা এই টুর্নামেন্টে এখনো অর্ধেক সামর্থ্যই দেখাতে পারিনি।’ কাল বিকেলে হকি ফেডারেশনে তাঁর পাশে বসে একজন রসিকতা করে উঠলেন, ‘ফুটবলে একসময়ের “ওয়ারী আইলো”র মতো এখন হকিতে “ওমান আইলো” ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের জন্য, হা হা!’
এসব হাস্যরসের মধ্যেই মিসর-চ্যালেঞ্জ উতরাতে হারুন আশাবাদের কথাই শোনালেন, ‘নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলে মিসরের বিপক্ষে সম্ভাবনা অবশ্যই আছে।’ তাঁর আশার ভিত্তি মিসর এই টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বে চীন ও ঘানার সঙ্গে টাইব্রেকারে জিতেছে, তাই দলটি ধরাছোঁয়ার বাইরে নয়। বাংলাদেশ অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমিও কোচের সঙ্গে একমত, ‘মিসরকে হারানো যাবে না, এমন কোনো ব্যাপার নেই। আমাদের আরও ভালো খেলার সামর্থ্য আছে। সেটি মাঠে করে দেখাতে পারলে জয় আসতেই পারে।’ জিমির আঙুলে হালকা চোট থাকলেও তিনি খেলবেন। চোটগ্রস্ত গোলরক্ষক অসীমকেও পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী কোচ। সবার আশা আসলে একটাই—আজ মাঠে সেরাটা দিয়ে জয় ছিনিয়ে জিমিরা পা রাখুন সেমিফাইনালে।
Share on Google Plus

About Sadia Afroza

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment